মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

কবিতাঃ পথিক ও ঘাসফুল

 


আমি ঘাসফুল

পেয়েছি ফুলের জীবন

আছি নরম ঘাস, বুনো লতার কোল জুড়ে।


দাঁড়াও হে পথিক!

চেয়ে দেখ আমায়

কেমন মুগ্ধতা চোখে মেখেছি

দেখো,দেখো চেয়ে।


নির্মলতা ছড়িয়ে জেগে আছি

অবাক চোখে দেখছি বিশ্বভূবন।


নিশিথে চাঁদের জোছনা মাখি

প্রভাতে সূর্য কিরণ।


ভালোবাসা পাই বা না পাই

শুধু আকুতি জানাই

মাড়িয়ো না আমায়,দলো না পা'য়ে।


অল্প সময়ের জীবনে

কিছু পাই বা না পাই

স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে যেতে চাই।


© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

কবিতাঃ মাতালগন্ধী প্রহর

 

 

আজকাল

আশ্চর্য এক ঘ্রাণ এসে

লাগে নাকে

ঠিক ভাতঘুমের প্রহরে

মাঝে মাঝে দুপুর তুমি এত মাতালগন্ধী হও কেন?


ঝড়ো হাওয়া

তুমি, কি যে বেহায়া!

সত্যি বলতে কি যাচ্ছে তাই।

তবে

আমি তোমার মত যাচ্ছে তাই হতে চাই

লুটাতে চাই মনোমোহিনীর

অসংখ্য চোরা খাঁজ আর গলিপথে

ঠিক যেমন

তুমি লুটাচ্ছো ইচ্ছে মত।


ভাবছি বসে আনমনে

যা মনে আসে তাই

স্তব্ধ দুপুর

আহ! মাতালগন্ধী সময়

নেশা ধরা প্রহরে

এখন যে নিজেকে সামলানো দায়।

ঠিক তখনই ডাক পাঠালো

গঙ্গা ফড়িং।

এই অবেলায় কি করো ঘরবন্দী হয়ে?


আমি বললাম,

কিচ্ছুটি নয়!


সব এই বিরহবেলার দোষ

জানাই কি করে.....

প্রিয়া আমার

এক বুক অভিমানে নিয়েছে মুখ ফিরায়ে।

© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

কবিতাঃ তুমি

  



🪶কবিতাঃ তুমি

🪡রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক 


পটুয়া হতে মন চায় তোমার ও রূপ দেখে

কবি হয়ে কবিতা লিখি আমি থেকে থেকে।


কেউ কেউ বলে পাগল, কেউ বলে বিকারগ্রস্ত 

কি আর বলবো দুঃখের কথা, আমি অবিন্যস্ত।


তোমার প্রেমের মাতাল হাওয়া দীপ্ত অনির্বাণ।

তোমার চুলের মিষ্টি ঘ্রান, অতল আহ্বান।


তুমি আমার চলার পথের একান্ত সহচরী।

জীবন পথের সঙ্গিনী তুমি, তুমিই প্রাণেশ্বরী। 


© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক  

রচনাকালঃ ২৭ জুন ২০২০


শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

কবিতাঃ কুটুস-পুটুসের সংসার -



🪶 কবিতঃ কুটুস-পুটুসের সংসার 

🪡রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক 

➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖

এক যে ছিল  কুটুস-পুটুস

কুটুস গেলো হাটে।

কুটুস ফেরার আশায় আশায় 

পুটুসের বেলা কাটে।


বেলা গেলো সন্ধ্যা হলো

কুটুস এলো না ফিরে।

নানা চিন্তায় পুটুসের

বড্ড  মাথা ধরে।


কুটুস পুটুসের দুই খোকা

নাম আটুল বাটুল।

বাবার শোকে দারুণ দুঃখে

কেঁদে তারা আকুল  । 


রাত বাড়লে চিন্তা বাড়ে  

ভয় ভাবনা জাগে 

এমনতো কখ্খনও 

হয়নি এর আগে!


কুটুস হয়তো পথ হারিয়ে 

কোথাও আটকে গেছে  

ফিরবে ঠিক ধৈর্য ধরি

এখনও সময় আছে।



তবুও  আটুল চেঁচায়,

চেঁচায় জোরে বাটুল।

শোকে দুঃখে রাগের মাথায়

পুটুস ছেঁড়ে চুল।


ঠিক তখনই  কুটুস ফেরে

দু হাত ভর্তি বাজার। 

সাথে আছে হরেক খাবার 

দারুণ মজার মজার। 


কান্না শেষে আনন্দেতে 

করছে তারা মজা। 

নির্ভাবনায় উবে গেছে 

কষ্ট নামের সাজা।

© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক 



শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

কবিতাঃ ব্যবচ্ছেদ- জাহিদ অনিক

 

ব্যবচ্ছেদ

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:০৪
জলের উচ্ছ্বাস দেখে নাম দিয়েছি জলোচ্ছ্বাস
পাহাড়ের চূড়া দেখে ভেবেছি ওটা ঈশ্বরের বুকের বৃন্ত
নিজের মত এমন ইতর অসভ্য ছোটলোক; কক্ষনও আগে দেখিনি,
সমুদ্রের ফেনা দেখে মনে মনে খুব ভেবেছি ফ্যালোপিয়ান টিউবের কথা-
ইচ্ছে করেছে আবার শুয়ে থাকি ওখানে, নরমে: রেশম উষ্ণতায়।

স্বাদেশিক বৈষম্য, স্বায়ত্তশাসন আর কিছু পাকাপোক্ত অসুখ -
নানাবিধ সভ্যতার তুমুল আগ্রাসনে ভুলে গেছি অসভ্যতা করতে।
নিজেকে হরহামেশাই মাকড়শার মতন লাগে -
মনে হয় অষ্টপ্রহর আটদিকে সুতায় বেঁধে আমাকে নিয়ে চলছে টানাহ্যাঁচড়া;
কিসে যেন বুকের মধ্যে তুমুল হাতুড়ি-পেটা
তবুও -
তবুও -
নারীর অবহেলা তবু সহ্য হয়, রাষ্ট্রের নয়।

সুন্দর`কে আমি সুন্দর বলতে পারি না-
অতীত`কে অতীত বলতে পারি না-
ভালোবাসা`কে আমি আদর করে ভালোবাসা বলতে পারি না;
নিজেকে বোঝাতে পারি না- 'আমি ফুরিয়েছি বর্তমানে'