শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

মধুরিমা সমগ্র

[১]
মধুরিমাঃআমায় তুমি নিয়ে চলো বানভাসি জলের মতো।
************************************************************
মধুরিমা,
বসন্ত তোমায় সাজিয়েছে নিজ হাতে।
তোমার সারা শরীরে,
গেঁথে রেখেছো তুমি, গানের অলংকার।
অস্থির অবগাহণে তুমি ছড়ালে,
ভোরের দীপ্তি নব রবি কিরণে।
প্রণাম তোমায়, হে ভালোবাসার দেবী।
তোমার ছায়ায় আমি খুঁজে পেয়েছি,
বেঁচে থাকার আসল মানে।
কঠিন সময় জয় করেছি যত, তোমারই অনুপ্রেরণায়।
তোমার তনু স্রোতস্বিনী সম,
বয়ে চলে আমার হৃদয় গভীরে।
তুমি আরো সিক্ত করো আমায়,
নিঃস্ব করো আমায়,হে ভালোবাসার দেবী।
তোমার শরীরের বর্ণ বাহারে, আমি হারাই বারবার।
আমায় তুমি নিয়ে চলো বানভাসি জলের মতো।

রচনা কালঃ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৯:১৯  
[২]

মধুরিমা , তুমি কেমন আছো ?

****************************************************
নিদ্রালু চোখে হাজার স্বপ্ন ভিড় করে আজকাল । তোমার আমার স্বপ্ন ,জুটিবাধার স্বপ্ন , জুটি ভাঙার স্বপ্ন ........। সেই সে প্রথম আবেগের বেলায় .। আমি খাতার পৃষ্ঠা ভরে তোমার প্রেমময় মুখ এঁকেছি কত শত শত। কারণে অকারণে..........। তোমার সাথে আমার নাম লিখেছি অপূর্ব + মধুরিমা ! এঁকেছি কেটেছি এঁকেছি কেটেছি নিজের মনের মতো আমি বোকার মত কৈশরে তোমার দেওয়া কষ্ট মেনে নিয়েছি। কষ্টেরা অতীত!এখন তা দুঃখবিলাসে রূপ নিয়েছে। তখন কত অস্থির ছিলাম ভাবতেই হাসি পায় । আমি তখন সারাটা দিন চেয়ে থাকতুম তোমার পথের পানে ....... যে পথ দিয়ে তুমি স্যারের কাছে পড়তে যেতে..বা খেলতে। তোমার বাবা সে কি ভয়ঙ্কর রূপ ........? আমার মনের একটা গোপন কুঠোরিতে তোমার দেওয়া পুরোনো উপহার গুলো এখনো আছে। সেদিন গুলোতে কত স্বপ্ন ভালোবাসায় আকড়ে ছিলো এবং আছে। তোমাতেই অভ্যস্ত ছিলাম পাগলের মতো! খুব জানতে ইচ্ছা করে ,মধুরিমা তুমি কেমন আছো ? আমি জানি তুমি দুর প্রবাসে একলা আছো। আমি জেনেছি । স্বাচ্ছন্দ্যের লোভে গড়া সংসার তুমি ভেঙে ফেলেছো। আমিও একলা আছি....। ভেবো না তোমার বিরহে আমি সন্ন্যাস জীবনযাপন করেছি । আমিও ভালোবাসার স্বাদ গন্ধ সব নিয়েছি....। তারপর সেই স্বপ্নও একদিন ফাটা বেলুনের মতো ভেঙে গেছে । তোমার আমার জীবনের , অতীতে আমার কষ্টে ভেজা মুখ ! তোমাতে অভ্যস্ততা........। তোমার স্মৃতি পরিনত হয়েছে আজ আমার দীর্ঘশ্বাসে..... তোমার পছন্দের আলো ঝলমল সুখের খোঁজে হারিয়ে যাওয়া। সেই মুখের নষ্ট মায়া! সম্পূর্ণ একটা মানুষকে নষ্ট করে .......। আমার বুকের মধ্যে সুতীব্র ক্ষত হয়ে রয়ে গেলে । আর আমি তোমার বিরহে এখনো একলা একা স্মৃতি গুলো রোমন্থন করি। অন্য রকম সুখ পাওয়ার আশায় ......... মধুরিমা ,তুমি কেমন আছো ?

রচনাকালঃ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩১   
*********************************************************** 

[৩]

এই আমি ও মধুরিমা

************************************
মধ্যরাতের ছায়ামানব এই আমি ।
একাকী অলস সময়গুলো কাটে না আর এখন কিছুতেই।
বিরক্তিকর প্রহরগুলো যাতনা বাড়ায় কেবল ই....। 
ভাবি বসে আমার নিঃসঙ্গ অধ্যায় নিয়ে।  
আকাশ তোমার কাছে একটা প্রশ্ন ছিলো....... ,
তুমি তো সাক্ষী ছিলে,
ইচ্ছেঘুড়ি চেপে এলোমেলো দুরে কোথাও যেতে....... 
চেয়েছিলাম তো এই আমি ও মধুরিমা।  

কালো-কালো পাখিগুলি বাকা ঝাঁক বেধে উড়ে চলে যেথায় ।
তোমার বুকের কাছাকাছি। 
তোমার স্নেহের ছায়ায় ....।
দেখতাম বসে বসে প্রায় আমরা। 
আকাশ তোমার বুকটা কতই না নীল,
অজানা রঙের পাখীগুলো ক্রমশ  আরো ছোট হতে হতে বিন্দু হয়ে যায়,
যেন তোমার বুকে কালো কালো তিলক হয়ে ফুটে আছে। 

অথবা নক্ষত্রেভরা রাতে নিস্তব্ধ চরাচরে....,
দুরে বনমাথায় ঝিকিমিকি জোনাকির আলোয়। 
যেমনি করে আমরা মিশে যেতে চাইতাম ........  

আমাকে তুমি আবার অনুপ্রেরণা দাও । 
নিঃসঙ্গতা দুর করে আবার তোমার শুক্লাতিথির পূর্ণিমার চাঁদের-
আলোয় পথ দেখাও.......।  

যাতে আমি আবার পৌছে যেতে পারি তোমার বুকে।
শুধু আমি নই সাথে মধুরিমা আসবে হয়তো ....
দেখা হবে  তোমার বুকের মধ্যিখানে যেখানটায় আকাশ অনেকটা নীল ।
দিনগুলি হবে হাজার রঙে রাঙানো অবাস্তব স্বপ্নীল। 
রাতগুলো হবে বর্ণাঢ্য ,নক্ষত্রের আলোয় উজ্জ্বালিত  ।
আমি ফিরতে চাই.....।
আমি আর মধুরিমা দুজনে একসাথে ই ফিরতে চাই ......... 
রচনাকালঃ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৫৪

*************************************

[৪]

মধুরিমাঃ তোমাকেই খুঁজছি

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৫
মধুরিমা, 
নীল আকাশে মাঝে আমি তোমায় খুঁজি ,
খোলা দিগন্তের শেষে আমি চোখ মেলি......
যে পথে তুমি চলে গেছো একদিন 
বিষন্ন মন নিয়ে আমার ই ভুলে !! 
একই পৃথিবী একই আকাশ 
খোলা প্রান্তর পথ  নদী ঘাট
তবু তোমার কাছে পৌঁছাবার কোন উপায় জানা নাই ।
ঠিকানা না রেখে এক বুক হতাশায়
শুধু দীর্ঘশ্বাস হয়ে কোথায় হারিয়ে গেলে......প্রিয়তমা। 

অবনত অপরাধবোধের দীর্ঘশ্বাস সর্বত্র 
চকিতে হাঁটাপথে তোমাকেই খুঁজে ফেরা ,
এখনো এলে না এলে না ....
তবে কি আর কখনো  দেখা হবে না?   
************************************************
[৫]

মধুরিমা ও আমিঃ যখন বসন্ত ছিলো

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৫৩  
 কতবার বলেছি !!
তোমার জলরঙের শাড়ি পরা দেখলে আমার রাগ হয়।
দেখো তো!
সবাই কিভাবে হ্যাংলার মতো ড্যাবডেবিয়ে দেখছে!
চোখগুলো এমনভাবে নাচাচ্ছে ! 
অদ্ভুত!!
কোনকালে আর কোন মেয়েকে দেখেনি মনে হয় !!
এমনভাব করছে,
পারলে তো দেখি এখনই ছুটে আসে।
অসভ্য একেকটা।
মনে হচ্ছে গিয়ে একেকটাকে থাপ্পড় মেরে দেই।
মধুরিমা হাতটা ছাড়ো তো........    
********************************************************
[৬]

মধুরিমাঃ তার তথাকথিত প্রেমিক ও আমি  

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪
নিত্যদিনের মতো আজো মধুরিমা এসে দাড়ালো,
ঝুল বারান্দায়।
চুল শুকানোর বাহানায় হয়তো।

সদ্য জলে ভেজা আদ্র্র মুখ,
অলৌকিক মোহময়ী চঞ্চলতা ছুঁয়ে,
তার রূপকে করেছে স্বর্গীয় আভাদীপ্ত।
কারো কারো রূপে তীব্র  টগবগে প্রানবন্ত ভাব থাকে,
অহংকার থাকে 
আবার
আদ্যাশক্তি ছুঁয়ে যায় অভিন্নতা।
ঠিক তেমনি বর্ণাঢ্য মধুরিমা!

আমি আড়ালে জানালার গ্রিল ঠোঁটে ধরে ,
চোখে দেখে নয়ন সার্থক করি।
এবং
তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো চেয়ে ই থাকি মানসী পানে।

মধুরিমার এসবে ভাবনা নেই যেন,
তার প্রেম পরিণয় সব বুঝি মনের গভীরে লুকানো।
সদা অবিনীত,গৌরবান্বিত ,অবিমিশ্র।
সে জানে শত শত অপ্রতিভ যুবক তাকে দেখে প্রতিনিয়ত,
যেমন এই দুপুরে ও তেমনি।
শীতে রোদ পোহানোর মত প্রেম পোহাচ্ছে তারা। 

নিচের পৃথিবীকে সে বরাবরই অহংকারী চোখে চায়। 
মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখে,
যুবকগুলোর দিকে হয়তো করুণা ছুঁড়ে দেয় দৃষ্টির চাহনি রেখে,
এবং তৎক্ষণাৎ আবার গ্রীবা উচু করে সে অহংকারী পাথরের মূর্তির মতো ভাবলেশহীন 
আকাশের দিকে চেয়ে রয় । 

আর এদিকে পাণিপ্রার্থী যুবকেরা সিগারেটের বর্ণিল ধোয়ায় নিঃশ্বাস ছেড়ে, 
নিকোটিন পুড়িয়ে,
সেই ধোয়া গোল গোল করে পাকিয়ে উড়িয়ে দেয় আকাশে,
চলে অবিরত আর অনবরত,
শুধু রাতের অপেক্ষায় প্রহর গোনে,
যখন সে স্বপ্নে ধরা দেবে অবলীলায়। 
রূপকথার রাজকন্যা হয়ে!! 
আর
আমি শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি ......।     
************************************************
[৭]

মধুরিমাঃ ধরেই নিলাম, এ আমারই ব্যর্থতা

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৭:৫৪

মধুরিমা,
তোমার খোলা আকাশে 
আজকাল পারিজাত ফুলগুলো 
বড্ড বেশি রঙীন দেখায়।  

তোমার বাহান্ন তীর্থের শরীর
আমায় অনর্থক রাত জাগায়।

তোমার ওই নিটোল কোমর,
বাঁকা ঠোঁট,চঞ্চল পটলচেরা চোখ,
দীর্ঘ কেশ
একহারা গড়ন,চলার ভঙ্গি,
আমার হৃদয়ে কেবলি  নিগম তুলে ধায়। 

আচ্ছা তুমি এরকম পাকাল মাছের মতো
পিচ্ছিল কেন বলতে পারো?

তুমি কি জানো?
তোমার জন্য আমার এই পৃথিবীতে আসা। 
তোমার জন্য আমার  সমস্ত কবিতার পঙক্তিগুলো এলোমেলো এবং প্রথাবিমুখ ।  
তোমার জন্য আমার স্বপ্নদিনের অশ্রুত হাততালি দেয়,  
তোমার জন্য আমার যত নিকোটিন পোড়ানো। 
জানিনা , জানো কিনা ?

একবার হলেও আহ্লাদি করে বলতে তো পারো !
হোক মিথ্যে করে!
বলতে তো পারো!  
ছাড়ো তো এসব  ভাবনা চিন্তা আর
বিড়ি সিগারেট , আমার হাতটা ধরো।

জানি তুমি উত্তর দেবে না ,
বলবেনা কোন কথা। 
হয়তো নৈবেদ্য সমূহ সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি 
তোমার মন মন্দিরে।
হয়তো ফুটিয়ে তুলতে পারিনি আমি আমার
মনের ব্যক্তিগত বার্তা সকল, 
তোমার মনের মতো করে সাবলীল হরফে । 
ঠিক আছে ধরেই নিলাম,  এ আমারই ব্যর্থতা   
******************************************************
[৮]

মধুরিমাঃ এলে তুমি অবেলায়

১১ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:১২   
অন্ধকারে হঠাৎ করে
চমকে উঠলাম  
অকস্মাৎ! 
একি তুমি!  
চিলেকোঠার ঘরে নিকোটিনের গন্ধে 
তখন সেই রকম অবস্থা। 
কিছুটা চেনা গন্ধে সন্দেহ ভরা চোখ
খুঁজতে থাকে চেনা কিছু ।
এশার আযান চলছে কাছের মসজিদে তখন।

অন্ধকার, তবু বিড়ির আগুনের আবছা আলোয়, 
তোমার অঙ্গভঙ্গির সঞ্চালনে , ভঙ্গিতে 
স্থির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো মস্তিষ্ক। 

তুমি! 
এযে তুমি!
এতো চির নবীন কমলিনী মধুরিমা।  

হঠাৎ উদাস হলো মনটা,
বুকের মধ্যে গরম হাওয়া ঘুরে গেল একরাশ।
কেঁপে উঠলো দেহ,তনু, মন।
হিম বয়ে গেল শিরঃদাড়া বেয়ে!

তারপর নিমেষেই তীব্র ক্রোধে জ্বলে উঠলো অন্তকরণ! 

সেই সময় কে যেন নিষ্প্রভ কণ্ঠে বলে উঠলো ,তুমি মনে হয়?
বিড়িটা এখন কি খুব বেশি টানো?
শরীরে প্রভাব পড়বে যে!  

আমার বুকে এখন ও চির বিরাজমান অতল ক্রুশবিদ্ধ কষ্ট।
মধুরিমা ,শুধু তোমার কারণ। 
তুমি ছিলে আমার শিয়াল কাঁটার বনে
মধুচক্রস্থিত স্ত্র্রীমক্ষিকা একসময়।
আমি বুকের থেকে ঘামের মতো মুছে ফেলেছি তোমার নাম বর্তমানে! 

কি যে হলো হঠাৎ, 
আমি রুক্ষ কর্কশ স্বরে চেঁচিয়ে বললাম, 
তুমি ফিরে যাও মধুরিমা।
আমি এখন আর তোমার নই।
তুমিও এখন আর আমার নও। 
তোমার আমরা পথ এখন দুটি দিকে। 
তুমি এখানে কি চাও?
আমি পরস্ত্রীর সাথে কথা বলিনা।

তোমার চোখে কি জল এলো?
হয়তোবা।
অনেক সময় ব্যাথার কাঁটা ফুটিয়ে দিতে হয়,
ব্যাথার স্থানে।
যন্ত্রণা সারাবার জন্য। 

তুমি ফিরে গেলে।
ক্লান্ত দেহ ভঙ্গিমায়।
আমার বুকটা আবারো কেঁপে উঠলো  অপরিজ্ঞাত মর্মযন্ত্রণায়।
বুক চিনচিন সাথে মনস্তাপ ,পীড়ন।
এতো ক্লেশ অতর্কিতে কোথা হতে এলো কে জানে!  

অভিসন্তাপ তো দুর হলো না যে কিছুতেই!!   

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++
[৯]

মধুরিমাঃ ছেড়ে দাও নিষিদ্ধ যুবকের হাত   

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৭:৫৪    
মধুরিমা,
কেন ধরেছো হাত তুমি অচেনা যুবকের?
কেন এত ঢলাঢলি?
দেখছে সবই ওই দখিনা ধ্রুবতারা.নীল জোছনা,
স্বপ্ন ভাঙা চোখে।
কেন তুমি বুঝেও বুঝো না, কেন?
ফিরে এসো প্রিয়া,
এসে ধরো এই প্রেমিকের হাত।
ঠোঁটে রাখো ঠোঁট,
আলগোছে নিভিয়ে দাও বেহায়া যত আলো।
একান্ত আকর্ষণে।
চলে এসো মধুরিমা।
এই বসন্তে,প্রেমময় নীপবনে।
জেনে রেখো,
অনেক ব্যাথা বুকে সয়ে,হারায়নি ধৈর্য।
ফিরে এসো সুনামির ঢেউ হয়ে,
তৃষিত বুকের তপ্ত বালুচরে।
আছড়ে পড়ো উদ্দামতায়।
আমি সব চাপ সয়ে, সব ক্লেশ মেনে,
টেনে নেব তোমার নির্যাস।
এসো ধরো হাত,এসো নিবিড় সন্তোলনে।
আমি বলছি, তুমি ছাড়ো হাত ওই নিষিদ্ধ যুবকের।
ফিরে এসো প্রিয়তমা।   
**************************************************************
[১০]

মধুরিমাঃ আজ তোমার বিসর্জনের দিন

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৭:২২
মধুরিমা,
শুধু তোমায় দেখবো বলে,
মন খারাপ। তবু,
এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে,
এলাম ব্যলকনিতে।
আজ যে তোমার বিসর্জনের দিন!
আজ আমার স্বপ্ন ভাঙার দিন!

এতো সেজেছো,
তবু মনের কষ্ট লুকাতে পেরেছো কি প্রিয়তমা?

কপালে পরেছো টিপ,
চোখে কাজল, ঠোঁটে মেখেছো আগুন রাঙা রঙ।
পুরো মুখ তোমার আবির রং এ রাঙা,
এত সাজ এত অলংকার…..।
অপরূপা লাগছে তোমায় বিয়ের কণের সাজে,
তবু
এত যতনেও,
তোমার কষ্টের ছাপগুলো,
একটুও লুকাতে পারোনি প্রিয়তমা।

আমার চোখ তুমি ফাঁকি দেবে?
কিভাবে?
এতটাই সহজ!

তোমার বিষন্ন আকাশ দেখে,
আমার চোখে যেন এলো বরষা।
মনের অলিন্দ বেয়ে বয়ে গেল কষ্টের নীল স্রোত!

সানাইয়ের মৃদু সুর,ভীড়, কোলাহল।
অতিথি আপ্যায়ন,

কতো আড়াল কত আবডাল!
কিন্তু এতো আড়ালের পরেও মন আড়াল হবে কি করে?
প্রিয়তমা।

তোমার চোখ যে মনের আয়না।
আমি সেই আয়নাতে দেখি,
তোমার কষ্টের উপাখ্যান।

আর তীব্র দহনে কেঁপে উঠি বারেবার।
হঠাৎ চোখে বান এলে শেষ দেখা দেখবো কি করে?
কেন এতো জল আসে চোখে?
বলো না প্রিয়তমা?
মহা যন্ত্রণা হলো দেখছি।   

এখন তো আমায় ভালোবেসে চোখ মুছিয়ে দেবার মতো,
কেউ রইলোনা আর।
তবু তুমি ভালো থেকো প্রিয়তমা। 
ভালো থেকো মধুরিমা।    
*****************************************************************
[১১]

মধুরিমাঃ কিছু সুখ স্মৃতি

১০ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৫৫   
শহুরে চাঁদের আলো অতটা কাব্যিক নয়।
যতটা কাব্যিক খোলা প্রান্তরের  জোছনা। 
কতদিন হয়ে গেলো,সনাতন জোছনা মাখা হয়নি।
তোমায় আমায় মিলে!
তাই নাগো প্রিয়তমা? 

তোমার কি মনে পড়ে মধুরিমা?
তুমি আমি ঝিলের ধারে,
রাত গভীরে। 
শূন্য শুনশান স্তব্দ চারপাশ।
নারকেল পাতার ফাঁকে পূর্ণ চাঁদ।
দম বন্ধকরা ভালো লাগা মুহুর্তে সে সময় যেন!
উদাসী কোন রাখাল রাত নিশিথে বাজায় বেদাগ সুর, 
সেই মধুক্ষণে,
তুমি রেখেছো হাত আমার এই হাতে।
অপরিমিত ভরসায়। 

রাত্রি জাগা স্খলিত নিদ্রা সঙ্গী সেই প্রহরে।
শুধু তুমি আমি ,পৃথিবীতে যেন একমাত্র মানব মানবী,
ঝিরিঝিরি দখিনা হাওয়ার আন্দোলনের মাঝে।
বাষ্পীভুত দুঃখবিলাসের মৃদু মন্দ করুণ সুর বাজছে 
অমত্ত চরাচরে।
কথা চলে মুখে নয়,
হৃদয় থেকে হৃদয়ে অব্যক্ত ভাষার  ইঙ্গিতে,
আর সুখের দোলায়,
আমরা চলেছি ভেসে অজানাতে।
শুধু ছায়াগুলো আছে সঙ্গী হয়ে পাশে পাশে। 
*******************************************************************
[১২]

মধুরিমাঃ আইসোলেশনের দিনগুলোতে তোমায় মনে পড়ে

৩০ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৬:২০   

জীবনের চলতি পথে,
অনেকগুলো কান্না একসাথে
জড়ো হয়ে বেদনা ও অভিমানের সৃষ্টি হলো।

তিমির রাত্রি ঘন ঘোর আঁধার,
শ্বাসরোধ হয়ে আসা সময়।

তবুও কি তুমি ফিরবে না মধুরিমা?
আসবেনা খোঁজ নিতে একবার,
দেখবে না চোখের দেখা?

মেয়েদের এতো বেশি নির্দয় হতে নেই প্রিয়তমা।

জানি পৃথিবী ভর্তি অক্সিজেন।
শুধু আমার জন্য বিধাতার বরাদ্দকৃত
অক্সিজেনটুকু ফুরিয়ে আসছে দ্রুত।
জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে,
যদি একবার মুখখানি দেখতে পেতাম তোমার!

আইসোলেশনের বড্ড যন্ত্রণাময় দিনগুলোতে
তোমাকেই খুঁজে ফেরে মন বারে বার।
চলে যাবার আগে হয়তো দেখা হবে না আর,
হবে না কোন কথা,
শুধু জানিয়ে গেলাম আমার এ অসহায় হাহাকার।      
**********************************************
[১৩]

মধুরিমাঃ ভালো থেকো   

১৫ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৪:০১   
কেমন আছো প্রিয়তমা স্বেচ্ছা বন্দী জীবনে? 
ঠিকঠাক আছো তো নিয়মে?  

আমি কিন্তু ভালো আছি, নতুন জীবনাচরণে,
এখন তো ঘরে বসেই থাকি।
যদিও মাঝে মাঝে তোমার কথা ভাবি।
তোমাকে না বদলালেও অন্য অনেক অভ্যাস
আমি বদলে নিয়েছি, সময়ের প্রয়োজনে। 
তবে কখনো কখনো সিগারেটের নেশাটা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে,
তুমি যাকে  সতীন বলতে ভালোবাসতে ! 
তুমি ছেড়ে গেলেও তোমার সতীন আমাকে ছেড়ে যায়নি কখনো। 

আর কি করি?
গান শুনি। মুভি দেখি।
ছবি আঁকি মাঝে মাঝে।
আচ্ছা তোমার ওই গালের তিলটা ঠিকঠাক আছে তো। 

একটা কথা তো বলাই হলো না, 
তুমি না আমায় কবি রুপে দেখতে ভালো বাসতে!
আমি তোমায় নিয়ে ভাবতে ভাবতে,
তোমার আমার সম্পর্ক নিয়ে লিখতে লিখতে ,
কবিতার মতো কিছু একটা লিখে ফেলছি।
ফুরসত পেলে অবশ্যই শোনাবো তোমাকে।
হতে পারে সেটা করোনা মুক্ত পৃথিবীর বিজয় উৎসবে।
ততোদিন খুব করে ভালো থাকা চাই কিন্তু।     

মাঝে মাঝে মন খারাপ হলেও ,
এখন আমার সময় কাটে  বিশ্রাম নিয়ে,
বিশ্রামেও ক্লান্তি আসে আজকাল! 

এই প্রথম বুঝলাম না পাওয়ার আনন্দেই মজা বেশি।
যেমন তোমাকে হারিয়ে আমি...... 

ও হ্যাঁ তোমাকে তো বলাই হয়নি,আমি দারুণ  রান্না শিখেছি।
ঠিক তোমার মতো করে।
মাটন কষা, ছোট মাছ চচ্চড়ি,
সেই সাথে প্লেইন পোলাও।
জানি শুনলে তোমার জিভে জল এসে যাবে। 
দেখা হবে যখন, খাওয়াবো, কথা দিলাম।
মুক্ত পৃথিবীতে আবার আমরা প্রেম করে বেড়াবো। 
সব ভুলগুলো শুধরে নেবো। 
তখন কিন্তু না বলতে পারবে না। 
ভালো থেকো মধুরিমা।    
***************************************************
[১৪]

মধুরিমাঃ এই আমি  

২৫ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:৫২

জানি প্রতি ক্ষণে তোমার গভীর ভালোবাসায় ছিলাম,
এই আমি।
জানি তোমার প্রতি  নিশ্বাসের সাথে ছিলাম,
এই আমি।
জানি তোমার প্রতি  রাত জাগা রাতের কল্পনায় ছিলাম,
এই আমি।
জানি তোমার প্রতি  প্রিয় গল্পের মধ্যমনি ছিলাম,
এই আমি। 


এতো চাওয়া, এতো আকুলতা,
এতো প্রেম,এতো ভালোবাসা।
তবে তবু কেন তুমি রয়ে গেলে অধরা?
তবে তবু কেন তুমি রয়ে গেলে রহস্যঘেরা?
জানতে চেয়েও পারিনি  জানতে।
কাছে  থেকেছি তবু কেন?
পারিনি কাছে  টানতে।  

তবে কি এ চাওয়ায়  ছিলো  কোন ফাঁকি? 
তোমার ভালোবাসা সব কি তবে মেকি?
বুঝিনি  আমি সত্যি  বুঝিনি। 

একি ভালোবাসা? নাকি ছলনা?
বলনা? 
বলোনা মধুরিমা, প্রিয়তমা একটু বলোনা।  

উফ! আবার সেই নীরবতা।
আবারও  সেই রহস্যময়তা।
তুমি  পারোও বটে!
তবু আমি রবো অপেক্ষায়।    
*************************************** 
[১৫] 

মধুরিমাঃ আমি তোমায় ভুলতে চাই   

১৯ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৯    
তোমায় কি একটু ছুঁয়ে দেখতে পারি মধুরিমা? 

হঠাৎ হাসি এলো,
জানি,
জানি সেতো সম্ভব নয়।

পাওয়া না পাওয়ার খেলাতে
সারাটা জীবন,
আমি বরাবরই না পাওয়ার দলে।
হেরো পার্টি আর কি।

আমার জীবনটাই একটা ধোকাবাজির সুদীর্ঘ উপন্যাস কিনা।

কতকাল হয়ে গেলো!
তোমায় ছুঁয়ে দেখা তো দুরের কথা,
চোখের দেখাও দেখতে পেলাম না।

আমাকে হয়তো ভুলে গিয়েছো!
অথবা জোর করে মন থেকে সরিয়ে রেখেছো।

এতো স্মৃতি, এতো গান ,এতো কথকতা।
কিভাবে সম্ভব ভুলে যাওয়া? 

কি করে পারলে?
আমায় একটু শিখিয়ে দেবে?
বেঁচে যেতাম তাহলে এ জীবনের মতো।

আচ্ছা,
কিভাবে বুকের দহন ভুলে থাকতে হয়?
কি করে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য  
স্মৃতি কাতর না হওয়া যায়।
কিভাবে সমস্ত অতীত এক নিমেষে
এক ক্লিকে ডিলিট করতে হয়?

ঠিক যেমন করে তুমি আমায় ভুলে গিয়েছো।
যেভাবে আমার স্মৃতি ছুড়ে ফেলেছো।
হ্যাঁ ছুড়ে ফেলেছো।

জানো না হয়তো,
কষ্টের রাতগুলো কতোটা বেদনায় ভরা।
সুতীব্র উল্লাস ধ্বনি সহ নিত্য কুরে কুরে খায় 
আমার হৃদয় মন্দির।
নিয়মিত এখনো নিয়মিত।

আমি একটু শান্তি পেতে চাই।
আমি একটু ঘুম জড়ানো রাত পেতে চাই।  
তুমি এমন কেন? কেন এমন?
কেন তুমি এলে এ জীবনে?
আবার চলে গেলেও হ্যালির ধুমকেতুর মতো।
কেন?

কোথায় হারালে ? কোথায়?
খুঁজে খুঁজে আমি হয়রাণ।

আমি আর খুঁজতে চাই না তোমায়।
আমি আর  ছুঁতেও চাই না তোমায়।
আমি আর চোখের দেখা দেখতেও চাই না তোমায় ।
 
আমি তোমায় ভুলতে চাই,
ভুলতে চাই।
ভুলতে চাই।   
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

হাটে যাবো



হাটে যাবো হাটে যাবো
বড্ড মজা হবে।
সন্দেশ আর রাবড়ি খাবো
দুটো টাকা দেবে?
দাওনা মাগো এক আধুলি
ছোলা সিঙ্গাড়া খাবো।
খানিক খেয়ে বাকিটুকু
তোমায় না হয় দেবো।
শহর ময়রার গজা খেয়েছো?
বেশ কুড়মুড়ে খেতে।
ঘোষ বাড়ির আমও খাবো
হাটের পথে যেতে।
দিনুর সাথে ভাব জমালে
লাভের উপর লাভ।
ছানার জিলিপি দেবে খেতে
দয়ালু স্বভাব।
কিষাণ আমার বন্ধু জানো
খাওয়ায় ঝালমুড়ি।
আমিও তাকে সাহায্য করি
বেচতে তরকারি।
হাট মানে তো দারুণ ব্যস্ততা
বেজায় কোলাহল।
আমারও নানান কাজে
বাড়ে চলাচল।
মল্লিকাদি চাইগো কিছু?
লাগলে বলতে পারো।
রেশমিচূড়ি,আলতা ও টিপ
কত কিছু আরো।
চুড়ি খাড়ু সাজ বাহারি
বসেছে লেইস ফিতা।
অত কি আর চিনি আমি?
ভাবলে ধরে মাথা।
যেতে যেতে হাটের পথে
ধরবো ফড়িং কয়েক।
লাগবে কি তোর ছোটকা বলনা?
তিন অথবা দুয়েক।
বাবার সাথে সাঁঝবেলাতে
ফিরবো যখন ঘরে।
ক্লান্ত হয়ে ঘুম নামবে
আমার দুচোখ জুড়ে।

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

কয়েকটি কবিতা

মেঘ প্রকৃতি ও জল বিষয়ক কাব্য 

আকুতি
শূন্য আকাশে চাতক পাখি 
উড়িতে উড়িতে কয়
মেঘ তুমি একত্রিত হয়ে 
ভেজাও বরষায়।।
অভিব্যক্তি
তীব্র দহনে পোড়ে প্রকৃতি
মানুষ ও গাছপালা
আশার ছলনে ভোলায় কেবলি
দুষ্টু মেঘমালা।।
প্রশ্ন
মেঘ তুমি দখিনা বাতাসে 
ভেসে এলে বটে
বৃষ্টি কেন নিয়ে এলে না 
এই ধরনী তটে?
কারণ
বন উজাড়,বৃক্ষ সাবাড়
কত না অনিয়ম অনাচার।
প্রকৃতি আজ রুদ্র কেবলি
এতো তারই উল্লাস উপহার।
অভিমান
মেঘ আসে মেঘ চলে যায়
বৃষ্টির নাই দেখা
মেঘ মালা কি করে ঝরিবে ?
কার আকর্ষণে ঝরিবে?
কোথায় ,কোথায় তার সখা?
উপলব্ধি
সারা পৃথিবীতে আজ নির্বিচারে
সমানে বৃক্ষ নিধন
প্রকৃতি তাই রুষ্ট যে হায়
খরা যে তার প্রতিফলন।
ফলাফল
প্রযুক্তি হয়তো বিকল্প ভাবনায়
সাময়িক সুখ দেয়
কালে কালে এর প্রতিফলন 
মহা বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
জলহীন পৃথিবী ,আসিতেছে সময়
কঠিন বাস্তবতা
জল চাই জল, পানীয় জল
সবিনয় আকুলতা
********************************************************
.

খোকার ইচ্ছে 

পাঠ্যবই খুলে দেখি 
অক্ষর গুলো ভারি ভারি
পাতায় পাতায় জমে আছে
ছবি রকমারি।।

পড়া লেখা এত ঝামেলা 
কে জানে কার সৃষ্টি?
পাঠে আমার মন বসে না
অনত্র যায় দৃষ্টি।।

বাতাস কেন দিচ্ছে হাওয়া
শনশন আওয়াজে ?
আকাশ কেন ভারী হয়
মেঘ গুড়গুড় বাজে?

সাঝ আকাশে চাঁদ ওঠে
সূ্‌র্য কোথায় হারায়?
জোনাক পোকা আঁধারেতে 
কোথায় আলো পায়?

হতো ভালো ইচ্ছে মতো
খেলতাম আর ঘুরতাম
মা বলে,"কেন বুঝিস না
লেখা পড়ার দাম"?

ধনসম্পদ টাকা পয়সা
গয়না বাড়ি গাড়ি
হারিয়ে যাবে এক নিমেষে
প্রমান ভুরি ভুরি।।

লেখা পড়া বিদ্যা বুদ্ধি 
অমূল্য সম্পদ
সব হারালেও বিদ্যা তোমার
জন্য নিরাপদ।  
**************************************************************************

তোমার আমার বসন্তদিনে   

বসন্তদিনে এসেছিলে তুমি
অনেকটা ভালবাসা নিয়ে
সাহস করিনি মূল্য দেইনি
ভুল করেছি ফিরায়ে দিয়ে।।

জীবন ছিলো আঁধার কালো
তুমি ছড়াতে চেয়েছিলে আলো,
বন্ধু তুমি কেমন আছো ?
নিশ্চয় অনেক ভালো।।

পথ চলার এই জীবনের বাঁকে
শত শত ভুলের পংতিমালা
সময়ের প্রয়োজনে গড়িয়েছে
হাজার বেদনা অশ্রু জ্বালা ।।

ভুলে গেছি মুখ ,তবু লাগে সুখ
এখনো রেখেছি মনে তারে,
জীবন বদলায়, সময় বদলায়
স্মৃতি কভূ ভোলেনারে।। 
********************************

অনুতাপ  

অম্লমধুর জীবন আমার
সুখদুঃখ সাথী,
জটিল অঙ্কের গোলক ধাঁধায় 
কাটলো দিবস রাতি ।।

সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে
দুঃখ শুধু পেলাম 
ফুলের বাগিচায় ফুলের বদলে
কাঁটা বেছে নিলাম ।।

জীবন সায়াহ্নে এই অবেলায় 
হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখি
অঙ্ক যত সব ই ভূল
আরো হিসাব রয়েছে বাকি ।।

বারেবারে মনে হয় যদি
একটু সময় পেতাম
শত সহস্র ভূল গুলো সব 
শুধরে নিতাম ।।

ভাবতে ভাবতে চেয়ে দেখি
আরো গিয়েছে বেলা
ফুরায়ে গিয়েছে আয়ু  আমার
সাঙ্গ হলো মোর খেলা ।।    
*******************************************************

জানোয়ারের গল্প   

আলোর সে পথ না জানি কত দূর
পেরোতে হবে কত বাধা কত পথ কত সমুদ্দূর ?
 বুকে আশা নানাশঙ্কা মনে জাগে কত ভয়
চলিতে পথে কে জানে কখন কি হয়!!
জঙ্গলের রাজত্বে এখানে সম্ভ্রম বাচানো দায়
নিলর্জ বেহায়ার দল সদা করিতেছে হায় হায়
আইন কানুন হেথা সবই হারায়েছে তার  গতিপথ
নিজের স্বার্থে কেবল ই সাজায় সুবিধাবাদীরা নানা মত
বুভুক্ষের দল নর মাংস লোভী তাদের পক্ষে  সব ই সম্ভব
অন্যের ধন কাড়িয়া তাহারা বাড়ায় বিত্ত বৈভব
যেন হরিন শাবক আমার মা সুস্বাদু লোভনীয়
যেনহিংস্র শকুনীর খাদ্য অতি সুদর্শনীয়
এত নারী লোভী,   কোথা ছিলো জানোয়ার
কখনো পিটিয়ে মারে,কখনো ছিন্ন করে দেহ আমার মা'র
মুখোশের আড়ালে থাকা গুটি কয়েক জানোয়ার
সহ্যের সীমার আজ সবটুকু করেছে পার
জেগে উঠো একে একে সব বাঙালী
জেগে ওঠো মানবতা মুছে ফেল সব  কলঙ্ক কালী ।।

ভালোবাসার গল্প

টুপটাপ বৃষ্টি তে ভিজছে একটি কাক শাবক।মুখটা হাঁ করে রাখা আকাশের দিকে।
মাঝে মাঝে ঢোক গিলছে। কাকেরা কি ঢোক গেলে, হয়তোবা ।
সেভাবে জানিনা।গুগলে সার্চ দিলে হয় । ইচ্ছে করছেনা ।
টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বাজছে...বাজুক...আজ মনটা ভালো নেই।কিছুক্ষণ আগে বউ সাথে হয়ে গেল এক চোট ঝগড়া।
মহা ঝগড়া।কয়েকটা কাচের প্লেট ক্ষতি গ্রস্ত হয়ে এখনো ছিটিয়ে আছে।বউ কাদছে..।
ক্ষিদে পেয়েছে ...রান্না বান্না শেষ .।ইলিশ খিচুড়ি।দারুণ গন্ধ ছেড়েছে।ক্ষিদেয় যেমন করছে পেট চনমন, তেমনি জিভে আসছে জল।
আমিও কাক শাবকের মতো ঢোক গিললাম।
বঊ এর দিকে তাকালাম।হাসি পাচ্ছে..।কেন তা জানি না। মিচকি হাসি..।বউ এর ভাষায় ফাজিলের হাসি।হা হা হা।
বেহায়া বেশরম লাজ লজ্জা কিছু আছে? তীব্র বাক্যবান ।
কি হলো উত্তর দিচ্ছ না যে..
কি বলবো এনার্জি নেই ঝগড়া করার ।খিদে পেয়েছে।
আর কি পারো খাওয়া আর শোয়া ছাড়া।
একটু বেশি আদি রসাত্মক হয়ে গেল না ।লোকে শুনবে।
শুনুক বেশি করে শুনুক তোমার ভালো মানুষি মুখোশ খুলে পড়ুক।
প্লিজ একটু চুপ করবে ।
না, না, না ।অসুবিধা?
একটু দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।
নাহহহ.।
মেয়েটা কে ?
আমার অফিসের।
কতদিন চলছে এসব লটর পটর।
ছি কী ভাষা.।
তুমি করলে সমস্যা নেই আর আমি বললেই দোষ।
দেখো আবারো বলছি কোনো রকম বাজে ইঙ্গিত করবে না।জলি আমার হাঁটুর বয়সী।তোমার রুচি এত নিচে নেমে গেছে।
.......................................
জামা পড়ে পায়ে চটি গলিয়ে বেরিয়ে এলাম.।বউ আজ মহা ক্ষেপেছে।সহজে থামবেনা।আর জলিটাও  মাথা মোটা।
কেন যে বলতে গেল স্যার এই বরষায় আপনাকে খুব মিস করছি।মেয়েদের কান খুব খাড়া থাকে বিশেষ করে স্বামী যখন
ফোনে কথা বলে।
হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো।
আমি হাটতে লাগলাম অসহায় ভাবে।
বেল বাজছে ।একবার দুইবার তিনবার আমি বাইরে থেকে শুনতে পাচ্ছি? ওরা কেউ শুনছে না কেন?
কি করছে সবাই?
ঝুম বৃষ্টিতে কী সবাই ঘুমাচ্ছে?
হঠাৎ লক খোলার শব্দ ।
মিতা তার স্বভাব সুলভ হাসি দিলো। 
-আরে দুলাভাই যে, কী খবর?এই ভর দুপুরে ?তাও বৃষ্টি মাথায়।আসুন একেবারে কাক ভেজা হয়ে গেছেন দেখছি।
-মুবিন নাই।
-মুবিন কে কী দরকার? আমাকে পছন্দ হচ্ছেনা ?হিহিহি। ভেতরে আসুন।মুবিন দিবা নিদ্রা দিচ্ছে।
-সরি ডিসটার্ব করলাম মনে হয়।
-আরে না আপনার মতো নাকি? আমরা ভর দুপুরে ওসব করি না।
-মানে?.।যা হোক ,খেতে দাও তো, খুব খিদে পেয়েছে।বিনা দাওয়াতে তোমার বাডিতে আজ খাব।
-বউ খেতে দেয়নি? 
-তুমি খেতে দেবে কিনা বল?আজ তোমার হাতের রান্না খাব ।অসুবিধা?
-না না,কি অসুবিধা। আপনি এলে তো ভালোই লাগে ।ঝটপট ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে বসুন ।বাবুও খেতে বসেছে।খেতে খেতে কথা বলি আমিও খাব ,আসুন।
মিতা প্রতিটা  কাজ চটপট ঝড়ের গতিতে করতে পারে।তার হাতের রান্নাটা ও বেশ আমি খেতে বসলাম।
মিতার ছেলেটা বেশ শান্ত ।সাধারণত এই বয়সের বাচ্চারা খুব দুষ্টু হয়।ও বেশ গোছানো স্বভাবের।চুপচাপ খেয়ে দেয়ে ও ঘরে চলে গেল।
আজ মিতা কথায় কথায় হাসছে।
-কি ব্যাপার আজ খুব মুডে আছো মনে হচ্ছে?
-তাই নাকি?তো দুলাভাই কী খবর ?কেমন চলছে?
-কোন খবর নেই। 
-এটা কিন্তু ঠিক বলেলেন না।চেপে যাচ্ছেন?
-কী?
-আপনি নাকি সেক্স সিম্বল হয়ে গেছেন।প্রেম ট্রেম করে বেড়াচ্ছেন।যাকে বলে বিশ্বপ্রেমিক ।
-কে বলেছে তোমার আপা?
-যেই বলুক সেটা কথানা ঘটনা কী সত্য?
আমি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম।
এই ব্যাপারে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না।
কেন?ও আপনি পিরীত করে বেড়াবেন লুচ্চামি করবেন আর আমরা বল্লেই দোষ?
এসব কী ভাষা?প্লীজ একটু থামবে।
-জলি মেয়েটা কেমন?খুব সুন্দরী?কত দিন ধরে চলছে এসব ফস্টিনস্টি?
-এসব কে বলেছে?
-কে বলেছে ইমপটেন্ট না ঘটনা সত্য কিনা বলেন। ঘটনা সত্য হলে তো পরিস্থিতি ভয়াবহ।আপনি কী বূঝতে পারছেন?নাকি ,না বোঝার ভান করছেন?
-আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না।
আমি চুপচাপ খেতে চেষ্টা করলাম খেতে ইচ্ছা করছে না।..বমি আসছে..গা গুলাচ্ছে।আজকের দিনটা খুব বিচ্ছিরি।আমার মাথা ধরে গেছে।কী আশ্চর্য ! আমি কড়া প্রতিবাদ করতে পারছিনা কেন?আমি কাউকে বোঝাতে পারছি না কেন?
বৃষ্টি থেমে গেছে কিন্তু আকাশ বেশ ভারী। এখন রাস্তা ধরে হাটছি। খিদে ভাবটা নেই।আমি আবার খাবারের কষ্ট সহ্য করতে পারি না।বিকাল গড়িয়ে গেছে ।গাছের নিচে সিটি করর্পোরেশনের  বেঞ্চ দেখে বসে পড়লাম।চটি খুলে দিব্যি বাচ্চা মতো পা দুলাতে লাগলাম।মজা লাগছে।গাড়ির প্যাঁ প্যোঁ আওয়াজ। অচেনা সব লোকজন।অদ্ভুদ সব আওয়াজ।
-কিরে কী খবর ?
আমি ঘাড় বেকিয়ে তাকালাম।খুব একটা চেনা মনে হলোনা।আবার মনে হলো চিনি।
-ভালো।শুকনো মুখে বললাম।
-চিনতে পারছিস।মনে তো হচ্ছেনা।মুখ দেখে মনে হচ্ছে পেট কামড়াচ্ছে।মেয়ে মানুষে তোর এলার্জি আছে নাকি?
আমি মাথা নাড়লাম।
-নাহ।
-চিনবি কী করে? এখন তো আমি অনেক সুন্দর হয়ে গেছি।পার্লার আছেনা।জীমে যাই।ফেসিয়াল....। সে যাই হোক।তোর খবর বল?
_আমি আসলে এখনো আপনাকে..।
-চিনতে পারিনি তাই তো।
-ঠিক।
-আরে ব্যাটা ফাজিল আমি সেই আটার বস্তাজলি।
ভিমরি খাবার মতো অবস্থা আবার জলি? এক জলিকে নিয়ে আমি জ্বলে পুড়ে মরছি ।এ যে দেখি আরেক জলি।চারিদিকে এতো জলি আসছে কোথা থেকে।
আমি দাঁত বের করে নকল হাসি হাসলাম।হ্যাঁ হ্যাঁ চিনেছি চিনেছি কেমন আছো?
-দোস্ত এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা।
-কি ঠিক হচ্ছেনা?
-এই যে তুই তুমি তুমি করে বলছিস।তোর আমার সম্পর্ক  তুই তাকারির।তুই করে বল।
-না মানে তুই.
-কেমন ম্যাদা মার্কা হয়ে গেছিস রে তুই।বিয়ে করেছিস?
-হু।
-হু কিরে?  আর  রাস্তার বেঞ্চে বসে কী করছিস ? চাকরি গেছে? না বউ বকেছে?
আমি দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লাম।-না না সেরকম কিছু না।
-বউ দেখাবি না? চল তোর বাড়িতে যাই ।রাস্তায় এভাবে দাড়িয়ে কথা বলা যায় নাকি?আমার সাথে গাড়ি আছে। চল চল।
আমি কি করবো বুঝতে পারছি না ।ভয় লাগছে ।অদ্ভুদ একটা সিরসিরানি অনুভূতি।এর পর কি হবে ?আজ এসব কী হচ্ছে?
জলি আমার হাত ধরলো ।আমি যন্ত্রের মতো হাটতে লাগলাম।  


যেতে যেতে আমি জলিকে কি বলবো বুঝতে পারছিনা। মানা্ও করতে পারছি না। কি করে বোঝাবো কী কঠিন অবস্থার মধ্যে আছি।
আর কাউকে কি বলা যায় এখন আমার বাসায় যাওয়া যাবে না ।আমার বউ বকবে বা এধরনরে কিছু....দ্রুত ভাবতে হবে ...আমার সিচুয়েসন ম্যানেজ করার  অসম্ভব দক্ষতা আছে, কিন্তু আজ কোন কিছুতে কিছু কাজ হচ্ছেনা । পরিস্থিতি আমার হাতের বাইরে।অসহ্য ব্যাপার...
-কি রে কি ভাবছিস ?
-না তেমন কিছু না ...আসলে একটা কথা বলার ছিল । 
-বল ,এমন দ্বিধা করছিস মনে হচ্ছে প্রেম নিবেদন করবি।
-আসলে বউ এর সাথে আমার খুব ঝামেলা চলছে।
-কি নিয়ে ?কবে থেকে?
-না না মানে আজ .....
-মিটিয়ে নে।বউ থাকলে তো ঝামেলা হবেই...বউ মানেই ঝামেলা......
-আমার বউ  সে রকম না ঝামেলা  টামেলা করে না কিন্তু একটা প্রবলেম হয়ে গেছে ।
-কি প্রবলেম ?সিরিয়াস কিছু ?
-অফিসের আমার একজন কলিগ আছে নাম জলি ।
-জলি ?ইন্টারেসটিং  আমার নামে নাম ।তারপর।
-মেয়েটা একটু পেছন পাকা টাইপের ,ফাজিল টাইপের বলতে পারিস।কথায় কথায় লেগ পুলিং করে । বেফাস কথা র্বা্তা বলে । আমি অবশ্য প্রশ্রয়ও দেইনি আবার মানাও করিনি । বরং  মজাই লাগতো। কিন্ত এসব কথা বউ কানে চলে গেছে..
- ও আর তু ই বউ এর ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিস হা হা হা ।
-আরে না ধ্যাৎ ।
-তাহলে ভয় পাচ্ছিস কেন?
-কে অশান্তি চায় বল? আর আমার বউ খুব ভালো মানুষ টাইপের ।সহজে রাগে না .একেবারে মাটির মানুষ । তবে রেগে গেলে আমি সামলাতে পারি না ।
-ভালো তো।
আর বউকে আমি খুব ভালো বাসি....খারাপ লাগছে খুব ,কি যে করবো কিছু বুঝতে পারছিনা।
-কুচ পরোয়া নেই চল  দেখি কি করা যায়।
গাড়ি এগিয়ে চলছে দুরন্ত গতিতে ।সন্ধ্যা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ।আমরা অনেক জায়গা ঘুরলাম। অনেক দিনের জমানো অনেক কথা শেয়ার করলাম । আর মাঝে মাঝে  উল্লেখ করতে লাগলো তুই আমাকে চিনতে পারিসনি আমি কিন্তু তোকে ঠিকই চিনেছি ।অবশেষে অনেক পথ ঘুরে বাসার সামনে গাড়ি থেকে নামলাম । বড্ড বেশি চুপচাপ চারপাশ। গাড়ি থেকে নেমে জলি আমার দিকে তাকালো ..
-তোদের পাড়াটা বেশ চুপচাপ তো। এই বাড়িটা ? কয় তালায় ?
-তিন তালায়।
আমরা সিড়ি  ভাঙতে লাগলাম । দোতালার সিড়িতে পা দিতে জলি আমার হাত টা ধরলো । আমি একটু অবাক হলাম ।
-কি রে?
-এই গুলো ধর ।
 আমি জলির হাতের উপহার এবং ফুলগুলি ধরলাম । এগুলো সে পথের মাঝে গাড়ি থামিয়ে কিনেছে ।হঠাৎ সে বলল
-আমি এখন আসি।
-কেন কি হয়েছে?
-কিছুনা ।এগুলো বউ এর জন্য নিয়ে যা, সরি বল।ছোট ছোট ভুল গুলো শুধরে নে, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।আজ আমি যাব না রে।আজকের দিনটা তোদের একান্ত নিজের হোক। মান অভিমান কাটুক ।তারপর একদিন আসা যাবে। আসলে এখনকার এই অস্থির সময়ে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখাটা খুব জরুরি।
 জলি আস্তে আস্তে সিড়ি ভেঙে নিচে নামতে লাগলো ।এক সময় ও আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো ।আজও ও আমার খুব ভালো বন্ধু।জলির প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার চোখ ভিজে গেল। আমি চোখ মুছে ডোর বেল বাজালাম। এখন মনটা হালকা লাগছে।.......[সমাপ্ত]












জ্ঞান বিজ্ঞান

#এটি পৃথিবী কুখ্যাত টেক্সাস rattle স্নেকের বাচ্চা। অতি অতি অতি বিষাক্ত। এমনিতে বেশিরভাগ সাপ ভয়ংকর না হলেও এটি ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতম। আমার নেইবারের বাড়ির গ্যারাজে পাওয়া গেছে, আজকে সকালেই। এখন ওদের মৌসুম চলছে গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে ঘুরাঘুরি করার। লোকজনের বাগানে এনাদের দেখা পাওয়া অতি স্বভাবিক ঘটনা।
আমার পেস্ট কন্ট্রোলারকে গত বছর বলছিলাম বাগানে গর্ত মর্ত পেলে যেন ব্যবস্থা করে কোন সাপ খোপ থাকলে সে পালিয়ে যায়।
সে বললো, "ও আচ্ছা, এটাতো খুবই সহজ। তুমি নিজেও করতে পারবা। ডিজেল নিয়ে গর্তে ঢালবা, rattle স্নেক থাকলে সে লাফিয়ে বের হবে। ইচ্ছা করলেই তুমি খাঁচায় বন্দি করতে পারবা। ওয়েস্ট টেক্সাসে লোকজন এভাবেই সাপ ধরে।"
আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমাকে কী কোন এঙ্গেল থেকে বেদের মেয়ে জোছনার বেদে সর্দার বলে মনে হয়?
যাই হোক, দোয়া করবেন এই প্রাণী যেন আমাদের বাড়ির ত্রিসীমানায় না আসে।
#

চন্দ্রবিজয় যখন চন্দ্রপরাজয়ে রূপ নিচ্ছিল

‘মানুষের জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ ১৯৬৯ সালের ২০শে জুলাই চাঁদের বুকে প্রথম অবতরণের পর এই বিখ্যাত উক্তি করেছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। কিন্তু সাড়াজাগানো চন্দ্রাভিযানের শেষটা হয়তো এমন সুখকর নাও হতে পারতো। এখন পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন- ‘কেন?’
বলছি। শুনুন।
আপাত দৃষ্টিতে নিরীহ কিন্তু ফলাফলে ভয়ঙ্কর একটা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই চন্দ্র-বিজয়ী। লুনার মডিউলের একটা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ভেঙে আরেকটু হলেই চাঁদে আটকা পড়তে হতো দুই নভোচারীকে। তবে এডউইন অলড্রিনের উপস্থিত বুদ্ধির জোরে রক্ষা পেয়েছিল কোটি ডলারের অভিযান আর নিজেদের অমূল্য প্রাণখানা। সব থেকে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো অলড্রিন এত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সামান্য একটা ফেল্ট-টিপ কলম ব্যবহার করে এড়িয়ে গিয়েছিলেন বিপদটি।
চাঁদে হাটাহাটি আর নমুনা সংগ্রহ করা শেষে অলড্রিন আর নিল আর্মস্ট্রং তৈরি হচ্ছিলেন লুনার মডিউল নিয়ে মূল নভোযানে ফেরত যাবার। সেখানে মাইকেল কলিন্স অপেক্ষা করছেন তাদের জন্য। আর ঠিক তখনই তারা লক্ষ্য করলেন ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেল থেকে এক ইঞ্চি লম্বা সার্কিট ব্রেকারের সুইচ ভেঙে গেছে।
২০০৯ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ম্যাগনিফিসেন্ট ডেসোলেশনঃ দ্য লং জার্নি হোম ফ্রম দ্য মুন-এ অলড্রিন বলেছেন- লুনার মডিউল মেঝেতে একটা কিছু পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। আর মেঝেতে ‘কিছু’ পড়ে থাকার কথা ছিল না।
আমি সামনে গিয়ে জিনিসটা দেখেই চমকে গেলাম। একটা সার্কিট ব্রেকার সুইচ ভেঙে কেবিনের মেঝেতে পড়ে আছে।
সুইচটা কোত্থেকে এলো ভাবতে ভাবতে ইন্সট্রুমেন্ট প্যানেলে সারি সারি সার্কিট ব্রেকারে চোখ বুলাতে লাগলেন তিনি। বিপদটা চোখে পড়তেই ঢোঁক গিললেন আতঙ্কে।
সুইচটা ইঞ্জিন-আর্ম সার্কিট ব্রেকার থেকে ভেঙেছে। আর এই ব্রেকারটা দিয়েই উড্ডয়ন ইঞ্জিনে ইলেক্ট্রিক্যাল পাওয়ার পাঠানো হয়। উড্ডয়ন ইঞ্জিন কাজ না করলে আমাকে আর অলড্রিনকে চাঁদের মাটি ছেড়ে উঠতে হবে না।
ভারী স্পেসসুট পরে নড়াচড়া করবার সময়ই সম্ভবত দু’জনের একজন নিজের অজান্তে ধাক্কা লাগিয়ে বসেছিলেন সুইচটাতে। কথা হচ্ছে- সুইচ যেভাবেই ভাঙুক না কেন, সার্কিট ব্রেকারটা কাজ না করলে উড্ডয়ন ইঞ্জিন চালুও হবে না, নভোচারীদের ঘরেও ফেরা হবে না। দ্রুতই দুর্ঘটনার কথা মিশন কন্ট্রোলকে জানানো হয়। মিশন কন্ট্রোলের বাঘা বাঘা সব টেকনিশিয়ান আর কর্তাব্যক্তিরা সারা রাত ধরে মাথা ঘামালেন কীভাবে কী করা যায়। কিন্তু লাভ হলো ঘণ্টা। হিউস্টন ওয়াজ হ্যাভিং অ্যা প্রবলেম। পরেরদিন সকাল নাগাদও কেউ সুরাহা বের করতে পারল না।
‘ভালমত পরীক্ষা করে দেখার পর ভাবলাম, লুনার মডিউলে যদি এমন কিছু একটা পাই যেটা সার্কিটটার ভেতরে ঢোকানো যাবে লম্বা সুইচটার বদলে- তাহলেই তো কাজ হয়ে যায়। অলড্রিন বলেন। ‘তবে জিনিসটা যেহেতু বৈদ্যুতিক, আঙ্গুল কিংবা ধাতব কিছু দিয়ে গুঁতোগুঁতি করবার সাহস পেলাম না। শোল্ডার পকেটে অবশ্য একটা ফেল্ট-টিপ কলম আছে, সেটা দিয়ে কাজ হলেও হতে পারে।’
শলা-পরামর্শ করে উড্ডয়নের কাউন্টডাউন নির্দিষ্ট সময় থেকে কয়েক ঘন্টা এগিয়ে আনেন দু’জনে। যদি বুদ্ধিটা কাজে না লাগে তাহলে বাড়তি কিছু সময় হাতে থাকবে তাদের। অলড্রিন দুরুদুরু বুকে হাতের কলমটা সার্কিট ব্রেকারের সুইচের ফুটোর ভিতর ঢুকিয়ে চাপ দিলেন। কলজেটা যেন লাফিয়ে উঠল তার- সার্কিট ব্রেকার কাজ করছে! বিপদ কেটে গেছে! এবার নিশ্চিন্তে বাড়ি যেতে পারবেন তারা।
এই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনি আজও কলম আর ভাঙা সুইচটা রেখে দিয়েছেন নিজের কাছে। নাসার চীফ হিস্টোরিয়ান উইলিয়াম ব্যারি বলেন, ‘সার্কিট ব্রেকারটা যদি কাজ করতে না পারতো তাহলে আর্মস্ট্রং আর অলড্রিন চাঁদে আটকা পড়তেন নিশ্চিত। তবে কলম দিয়েও যদি কাজ হাসিল না হতো তাহলে আমি নিশ্চিত, মিশন কন্ট্রোল আর ক্রু’রা মিলে অন্য কোনো না কোনো উপায় বের করে ফেলত।’
‘তবে সত্যি কথা হচ্ছে, অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। এতটাই বেশি যে- পরবর্তীতে লুনার মডিউলগুলোর সার্কিট ব্রেকারের উপর আলাদা গার্ড বসানো থাকতো যাতে এরকম বিপদে পড়তে না হয়।’
ব্যারি বলেন, 'অ্যাপোলো প্রোগ্রাম চলাকালীন সময় মিশন কন্ট্রোল আর নভোচারীরা মিলে হাজার বারের বেশি সিমুলেশন চালিয়েছেন। সিমুলেশন টীমের ক্রু’রা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একেক বার একেক বিপদ বের করতেন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবার জন্য, যাতে অচেনা কোনো আশঙ্কার মুখোমুখি হতে না হয় আসল সময়ে গিয়ে।
‘আমার জানা নেই যে সার্কিট ব্রেকারের ভাঙা সুইচ নিয়ে কোনো সিমুলেশন চালানো হয়েছিল কি না; তবে সিমুলেটরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে নভোচারী-গ্রাউন্ড ক্রু’রা যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা সার্কিট ব্রেকার ছাড়া অন্য যেকোনো বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতেন এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’
এই সুইচ ভাঙার ব্যাপারটা কি তাহলে নাসা কল্পনা করেনি? উত্তরটা হবে- না। উড্ডয়নকালে কিংবা যাত্রাপতে অনেক সমস্যাই হতে পারে- এটা না বোঝার মতো বোকা না তারা। তবে কথা হচ্ছে সিমুলেটরে লুনার মডিউল লঞ্চ আর ডকিং (মূল নভোযানের সাথে মিলিত হওয়া) সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার সমাধান শেখানো হয়েছিল। তবে এসব সমস্যা তখনই হবে যখন লুনার মডিউল চাঁদের বুক ছেড়ে উপরে উঠবে। আর সুইচ ভেঙে যাওয়ায় অলড্রিনরা ঠিক সেটাই করতে পারছিলেন না। বাহনের উড্ডয়ন ইঞ্জিন অকেজো হয়ে গেলে কমান্ড মডিউলে থেকে মাইকেল কলিন্সও কোনো সাহায্য করতে পারতেন না। কারণ মূল নভোযান চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণে সক্ষম ছিল না।
এত আধুনিক প্রযুক্তি আর প্রস্তুতি সব মাঠে মারা যেত সামান্য কলমটা না থাকলে।
এখন থেকে পকেটে একটা বাড়তি কলম রেখে দিতে পারেন। কখন কোন দরকারে লেগে যায়, কে জানে!
সংগৃহীত